মাননীয়’ বা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ ব্যবহার না করার সরকারি সিদ্ধান্ত নিজের কার্যালয় থেকেই কার্যকর করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে দাপ্তরিক শৃঙ্খলার অংশ হিসেবে ডিজিটাল হাজিরাও দিচ্ছেন তিনি।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ফাইল, নথি ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে পদবির আগে ‘মাননীয়’ শব্দ ব্যবহার না করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
প্রধানমন্ত্রী সকালে সচিবালয়ে নিজ কার্যালয়ে অফিস করেন। কার্যালয়ে প্রবেশের আগে তিনি ডিজিটাল হাজিরা দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
এর আগে বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের জারি করা এক পরিপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীর সঙ্গে সরকারি যোগাযোগ, নথিপত্র এবং সারসংক্ষেপ উপস্থাপনের ক্ষেত্রে তাদের পদবির আগে ‘মহামান্য’, ‘মাননীয়’ কিংবা অন্য কোনো সম্মানসূচক শব্দ লিখিতভাবে ব্যবহার করা যাবে না।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এই সিদ্ধান্ত শুধু পরিপত্রে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়েও তা বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপিত ফাইল ও সরকারি নথিতে ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী’ না লিখে শুধু ‘প্রধানমন্ত্রী’ লেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ‘মাননীয়’ শব্দ বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ধারাবাহিক কিছু উদ্যোগের অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। পদমর্যাদার সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বিশেষণ ব্যবহারের পরিবর্তে দায়িত্ব, জনসেবা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা এতে রয়েছে।
এর পাশাপাশি দাপ্তরিক শৃঙ্খলা নিশ্চিত করতে চালু করা হয়েছে ডিজিটাল হাজিরা ব্যবস্থা। কার্যালয়ে প্রবেশের সময় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর মতো প্রধানমন্ত্রীও নিয়মিত অনলাইন হাজিরা দিচ্ছেন। দিনের কাজ শেষে কার্যালয় ত্যাগের সময়ও নির্ধারিত নিয়মে হাজিরা দেওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
সরকারপ্রধান নিজেই সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম অনুসরণ করায় প্রশাসনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও একইভাবে নিয়ম মেনে চলার বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা জানান, সময়ানুবর্তিতা, জবাবদিহি ও প্রশাসনিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। রাষ্ট্র পরিচালনার সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকা ব্যক্তি যখন সাধারণ দাপ্তরিক নিয়ম মেনে চলেন, তখন প্রশাসনের অন্যদের কাছেও একই নিয়ম অনুসরণের প্রত্যাশা আরও স্পষ্ট হয়।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রীয় কাজে ব্যক্তিকেন্দ্রিকতা ও অপ্রয়োজনীয় আড়ম্বর কমাতেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। সরকারি কার্যক্রম ও প্রচারণায় প্রধানমন্ত্রীর ছবি ব্যবহার না করা, প্রধানমন্ত্রীর প্রটোকলে গাড়ির সংখ্যা কমিয়ে আনা এবং তার চলাচলের সময় সাধারণ মানুষের জন্য ট্রাফিক সিগন্যাল বন্ধ না রাখার মতো উদ্যোগ এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে।
amardesh24.com









