তিতাস গ্যাসক্ষেত্র থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে গতকাল শনিবার দেশের অন্যতম বৃহৎ ও পুরোনো এই গ্যাসক্ষেত্রের ২৮ নম্বর কূপ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ১২ দশমিক ৫ মিলিয়ন ঘনফুট হারে গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়েছে। এদিন দুপুরে সরবরাহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
এ ছাড়া তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ২৯ নম্বর কূপ থেকেও শিগগিরই জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু হবে। পাশাপাশি আগামী ছয় মাসের মধ্যে, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারির মধ্যেই আরও দুটি কূপের গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা।
তিতাস গ্যাসক্ষেত্র সূত্র জানায়, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেডের (বিজিএফসিএল) পরিচালনাধীন এ গ্যাসক্ষেত্রের ২৩টি কূপ বর্তমানে উৎপাদনে রয়েছে। এসব কূপ থেকে প্রতিদিন গড়ে ৩৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস জাতীয় সঞ্চালন লাইনে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে দীর্ঘদিন ধরে গ্যাস উত্তোলনের কারণে মজুত ও চাপ কমে যাওয়ায় পুরোনো কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে।
এ পরিস্থিতিতে সদর উপজেলার সুহিলপুর এলাকায় তিতাস গ্যাসক্ষেত্রের ‘সি’ লোকেশনে নতুন গ্যাসের উৎসের সন্ধানে ২০১২ সালে জরিপ পরিচালনা করে বিজিএফসিএল। পরে ২০২০ সালে ওই জরিপের প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে নতুন কূপ খননের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর তিতাস ২৮ নম্বর কূপের খননকাজ শুরু হয়। প্রায় ২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩ হাজার ৬০১ মিটার গভীরতায় কূপটির খননকাজ শেষ হয় চলতি বছরের ২৭ মে। চীনা প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি কূপটির খননকাজ সম্পন্ন করে। পরে ১৯ জুন থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কূপটি থেকে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ শুরু করা হয়।
amardesh24.com







