ইসলামি বক্তা রফিকুল ইসলাম মাদানী তবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার নেতৃত্বে আয়োজিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে নারীদের খেলাধুলা ও পোশাকের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে এসব কথা বলেন রফিকুল ইসলাম মাদানী।
স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, ডাকসু নির্বাচনে সাদিক কায়েম বিজয়ী হওয়ার পর তিনি অনেক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছিলেন। এমনকি সারারাত জেগে ফলাফলের দিকে তাকিয়ে ছিলেন বলেও জানান। ওই সময়ের পোস্টগুলো তার ফেসবুক আইডিতে এখনো দেখা যাবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ডাকসুর এই বিজয়কে তিনি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরোধী শক্তির বিজয় এবং নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখেছিলেন।
মাদানী বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামের সূতিকাগার। জুলাই আন্দোলনও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই শুরু হয়েছে। তাই তার মতে, সেখানে শিবিরের হাতে নেতৃত্ব থাকা দিল্লির জন্য বড় ধরনের উদ্বেগের বিষয় হওয়ায় তিনি সাদিক কায়েমের জয়ে আনন্দিত হয়েছিলেন।
সাদিক কায়েম ও এস এম ফরহাদ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করেছেন উল্লেখ করে মাদানী বলেন, সিট বাণিজ্য বন্ধ করা, যোগ্যতা অনুযায়ী সিট বরাদ্দ, বৃষ্টির দিনে মেয়েদের জন্য ভ্যানের ব্যবস্থা, আলাদা বাস এবং গরমের সময়ে সুপেয় পানির ব্যবস্থা করা প্রশংসনীয় উদ্যোগ। তবে এসব কাজের পাশাপাশি ইসলামের দৃষ্টিভঙ্গিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
তিনি প্রশ্ন রাখেন, মুসলিম হিসেবে শুধু দুনিয়াবি সুযোগ-সুবিধার কারণে কাউকে সমর্থন করা যায় কি না, নাকি এসবের চেয়েও আল্লাহর বিধানকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ইসলামিক প্রতিষ্ঠান নয় এবং সেখানে সব নারী পর্দা করেন না-এ কথা উল্লেখ করে মাদানী বলেন, নারীরা বাস্কেটবল খেললে তার আপত্তি নয়। তার প্রশ্ন মূলত খেলাধুলার আয়োজনের ধরন নিয়ে। শর্ট প্যান্ট ও টাইট ফিটিং গেঞ্জি পরে নারীদের খেলাধুলার আয়োজন করা এবং সেটিকে প্রকাশ্যে উৎসাহ ও গর্বের সঙ্গে উপস্থাপনের বিষয়টি নিয়েই তিনি প্রশ্ন তুলেছেন।
তিনি আরও বলেন, একজন আয়োজক আরমানকে হাততালি দেওয়ার আহ্বান জানানো নিয়েও তার আপত্তি রয়েছে।
সাদিক কায়েমকে অনেক নারী অনুসরণ করেন এবং নেতা হিসেবে দেখেন উল্লেখ করে মাদানী বলেন, তারা যখন সাদিক কায়েমকে শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক, আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ বিভিন্ন আলেমের সঙ্গে অনুষ্ঠানে দেখেন এবং জামায়াতের আমিরসহ অনেক আলেম তাকে সমর্থন করেন বলে মনে করেন, তখন তার কর্মকাণ্ডকে সঠিক হিসেবে বিবেচনা করার সম্ভাবনা তৈরি হয়।
মারজিয়া মমতাজের মতো মহিলা শাখার সদস্যরা টকশোতে মেয়েদের শর্ট প্যান্ট পরা নিয়ে আপত্তি নেই বলে বক্তব্য দিলে এর প্রভাব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন মাদানী। তার মতে, এতে অনেক সরলমনা নারী ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্ত ধারণা পেতে পারেন।
এ বিষয়ে তিনি শায়েখ আহমদুল্লাহ, শায়েখ মিজানুর রহমান আজহারী, শায়েখ মামুনুল হক ও আব্দুল হাই মুহাম্মদ সাইফুল্লাহসহ যেসব আলেমের নাম উল্লেখ করেছেন, তাদের সুস্পষ্ট বক্তব্য দেওয়ার আহ্বান জানান।
মাদানী বলেন, সাদিক কায়েমকে অনুসরণকারী অনেক তরুণ-তরুণীর কাছে আলেমদের বক্তব্য সরাসরি পৌঁছায় না। তাই এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হলে সাদিক কায়েমসহ সংশ্লিষ্ট সবাই সতর্ক হতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি শুধু উন্নয়ন দিয়ে দেখার নয়। তার দাবি, শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগও বিভিন্ন সময়ে উন্নয়ন করেছে, কিন্তু তাদের এজেন্ডার বিরোধিতা করা হয়েছে আদর্শের কারণে। তার কাছে আদর্শ ও আল্লাহর বিধানই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।স্ট্যাটাসের শেষাংশে মাদানী বলেন, পশ্চিমা বিশ্বের কাছে নিজেদের প্রগতিশীল হিসেবে তুলে ধরে ক্ষমতায় যাওয়ার প্রচেষ্টা।
amardesh24.com









