আমারদেশ২৪ ডেস্ক।
হার্ট অ্যাটাক বা হৃদরোগ সাধারণত একদিনে তৈরি হয় না। ধূমপান, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস দীর্ঘদিন ধরে রক্তনালির ক্ষতি করতে পারে। তাই হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক পরিশ্রম ও জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনা গুরুত্বপূর্ণ।
শাকসবজি
শাকসবজিতে থাকা আঁশ, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন ও বিভিন্ন উদ্ভিজ্জ উপাদান রক্তচাপ, ওজন ও সামগ্রিক হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। পালংশাক, লালশাক, পুঁইশাক, লাউ, ঝিঙে, করলা, ঢ্যাঁড়স, ফুলকপি, বাঁধাকপি, গাজর ও টমেটোর মতো দেশীয় সবজি নিয়মিত খাবারের তালিকায় রাখা যেতে পারে।
মৌসুমি ফল
পেয়ারা, কমলা, আপেল, নাশপাতি, পেঁপে, ডালিমসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফল খেতে পারেন। ফলের জুসের চেয়ে আস্ত ফলকে অগ্রাধিকার দেওয়া ভালো। গোটা ফলে আঁশ থাকে এবং জুসের তুলনায় দ্রুত চিনি শোষণের ঝুঁকি কম। চিনিযুক্ত বা বোতলজাত ফলের জুস কখনোই তাজা ফলের বিকল্প নয়।
ডাল ও পূর্ণশস্য
মসুর ডাল, মুগ ডাল, ছোলা, রাজমা, ওটস, বার্লি ও অন্যান্য পূর্ণশস্যে থাকা আঁশ ক্ষতিকর এলডিএল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। বিশেষ করে দ্রবণীয় আঁশ অন্ত্রে কোলেস্টেরল শোষণ কমাতে সাহায্য করে।
মাছ রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ
মাছে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদ্স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী। তবে অতিরিক্ত তেলে মাছ ভাজা বা ডিপ ফ্রাই করলে বাড়তি ক্যালরি ও চর্বি গ্রহণ হয়। তাই ঝোল, সেদ্ধ, গ্রিল বা কম তেলে রান্না করা মাছ খাওয়ার অভ্যাস করা ভালো।
বাদাম ও বীজ পরিমাণমতো
বাদাম ও বিভিন্ন বীজে অসম্পৃক্ত চর্বি, আঁশ ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তবে বাদামে ক্যালরি বেশি থাকায় অতিরিক্ত খাওয়া ঠিক নয়। সম্ভব হলে লবণবিহীন বাদাম বেছে নেওয়া উচিত।
লবণ কমাতে হবে
অতিরিক্ত লবণ রক্তচাপ বাড়াতে পারে। দীর্ঘদিন উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে না থাকলে হৃদ্পিণ্ড ও রক্তনালির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। তাই খাবারে বাড়তি লবণ কমানোর পাশাপাশি চিপস, নোনতা স্ন্যাকস, অতিরিক্ত নোনতা আচার, প্যাকেটজাত খাবার ও প্রক্রিয়াজাত খাবার সীমিত করা উচিত।
পটাশিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ
শাকসবজি, ডাল, টমেটো, কমলা ও কলার মতো খাবারে পটাশিয়াম থাকে। পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করতে পারে। তবে কিডনির রোগ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া অতিরিক্ত পটাশিয়াম গ্রহণ করা উচিত নয়।
যেসব খাবার এড়িয়ে চলবেন
অতিরিক্ত লবণ, চর্বিযুক্ত লাল মাংস, প্রক্রিয়াজাত মাংস, অতিরিক্ত ঘি ও মাখন, বেশি তেলে ভাজা খাবার, ট্রান্স ফ্যাট, অতিরিক্ত চিনি ও মিষ্টি পানীয়, প্যাকেটজাত এবং অতিপ্রক্রিয়াজাত খাবার যতটা সম্ভব সীমিত করা উচিত।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায়ই বিভিন্ন খাবারকে কোলেস্টেরল কমানো, রক্তনালির ব্লক পরিষ্কার করা বা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের বিশেষ খাবার হিসেবে প্রচার করা হয়। তবে কোনো একটি খাবার রক্তনালির ব্লক খুলে দিতে পারে না। হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে দীর্ঘমেয়াদি স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রম, ওজন নিয়ন্ত্রণ এবং রক্তচাপ, কোলেস্টেরল ও ডায়াবেটিসের যথাযথ ব্যবস্থাপনা জরুরি।









