বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার ভারতীয় নাগরিক রবিউল ইসলামকে সাত দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. সেফাতুল্লাহ এ রিমান্ড আদেশ দেন।
এদিন রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় সরকারি গোপন আইনে মামলা করা হয়। গোয়েন্দা রমনা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মেজবাহ উদ্দিন বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার পর রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও গোয়েন্দা বিভাগের পুলিশ পরিদর্শক মো. নুর আলম। এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। শুনানি শেষে আদালত সাত দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার বিবরণে বলা হয়েছে, রবিউল ইসলামের ড্রাইভিং লাইসেন্স ও পাসপোর্টে জন্মতারিখের গড়মিল রয়েছে। তিনি ভারতীয় নাগরিক হলেও তার পাসপোর্টে জন্মস্থান সৌদি আরবের রিয়াদ উল্লেখ করা হয়েছে।
জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে রবিউল স্বীকার করেন, প্রায় ১০ থেকে ১২ বছর ধরে তিনি বাংলাদেশে যাতায়াত করছেন। এ সময় কখনো ট্যুরিস্ট ভিসা, আবার কখনো বিজনেস ভিসায় বাংলাদেশে প্রবেশ করেছেন তিনি।
মামলার বিবরণে আরও বলা হয়, বেশিরভাগ সময় ট্যুরিস্ট ভিসায় বাংলাদেশে এসে ব্যবসায়িক কার্যক্রমের আড়ালে গুপ্তচরবৃত্তি করে বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ এবং গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাচার করে আসছিলেন রবিউল ইসলাম।
এরই ধারাবাহিকতায় গত ১৪ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা জেলার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। ১৫ সেপ্টেম্বর থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থানকালে রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। এ সময় গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেছেন বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও স্বার্থের পরিপন্থী কাজে গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্থাপনা ও নিষিদ্ধ এলাকার ছবি, সরকারি নথি বা তথ্য বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার কাছে পাঠানো, পাঠানোর চেষ্টা এবং বিদেশি গোয়েন্দা সংস্থার এজেন্টদের সহায়তা করার অভিযোগে রবিউল ইসলামের বিরুদ্ধে ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের ৩, ৩এ, ৪, ৫ ও ৯ ধারায় অপরাধের তথ্য পাওয়া গেছে।
এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর ৫৪ ধারায় রবিউলকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। ওইদিন গোয়েন্দা রমনা বিভাগের অবৈধ অস্ত্র ও মাদক উদ্ধার টিমের এসআই বিনয় কুমার রায় তার সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। আদালত সেদিন তার চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
চার দিনের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গত ২৭ সেপ্টেম্বর ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। পরবর্তী সময়ে রবিউলের বিরুদ্ধে গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
amardesh24.com









