সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ার ১ থেকে ৫ দিন আগেই তা ব্লক করার সুযোগ রয়েছে। আর ই-টিকেটিং সিস্টেমের ড্যাশবোর্ডের নিয়ন্ত্রণ রয়েছে ভেন্ডর প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের কর্মীদের হাতে। পরিবহন অডিট অধিদপ্তরের আইটি অডিটে এমন তথ্য উঠে এসেছে। চুক্তির শর্ত ভেঙে টিকিট অপারেশনে ভেন্ডর কর্মীদের সরাসরি যুক্ত রাখায় কালোবাজারির সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে অডিটে উঠে এসেছে।
রেলের টিকিট নিয়ে সাধারণ যাত্রীদের ভোগান্তি দীর্ঘদিনের। টিকিট প্রাপ্তি সহজ করতে বাংলাদেশ রেলওয়ে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনলাইনে ট্রেনের টিকিট বিক্রি ও ব্যবস্থাপনার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সহজ ডট কমের সঙ্গে চুক্তি করে।
তবে টিকিট প্রাপ্তি সহজ করতে পারেনি সহজ ডট কম। প্রতিষ্ঠানটির চট্টগ্রাম ও সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ই-টিকেটিং ড্যাশবোর্ডে ৬টি সক্রিয় ইউজারের তালিকা পাওয়া গেছে, যা সহজ ডট কমের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
এ ছাড়া সিলেট স্টেশনে দায়িত্বরত ভেন্ডর প্রতিনিধির অ্যাডমিন ড্যাশবোর্ড থেকে দেখা যায়, সারা দেশের রেলওয়ের যেকোনো রুটের টিকিট সাধারণ যাত্রীদের জন্য উন্মুক্ত করার ১ থেকে ৫ দিন আগেই অবৈধভাবে ব্লক করার সুযোগ রয়েছে।
এসব বিষয় খতিয়ে দেখতে ২০২১-২০২২ অর্থবছর থেকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের কার্যক্রমের ওপর অডিট পরিচালনা করে পরিবহন অডিট অধিদপ্তর। এতে উঠে আসে এসব তথ্য।
নলেজ হাব ইনস্টিটিউটের প্রেসিডেন্ট খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, ‘ই-টিকিটিং সিস্টেমটা আগের মতো যে কালোবাজারি সিস্টেম সেই ধরনের একটা সিস্টেমের নামান্তর হয়ে যাচ্ছে বলে আমরা ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছি। রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের ভেতরে বা অধিদপ্তরের ভেতরে প্রযুক্তিগতভাবে সক্ষম লোকবল দিয়ে ইন্টারনাল মনিটরিং সিস্টেম চালু করা দরকার।’
এসব বিষয়ে জানতে সহজ ডট কমের অফিসে গেলে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্নেল অবসরপ্রাপ্ত আমিনুল হক কোনো কথা বলতে রাজি হননি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। মেসেজ পাঠানো হলেও তার উত্তর মেলেনি।
রেলওয়ের সঙ্গে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, সহজের কর্মীদের দায়িত্ব ছিল হার্ডওয়্যার, সফটওয়্যার ও নেটওয়ার্ক রক্ষণাবেক্ষণ। টিকিট বিক্রি, আসন সংরক্ষণ, কোটা সমন্বয় কিংবা টিকিট ব্লক ও রিলিজের মতো কাজে তাদের যুক্ত থাকার কথা নয়। কিন্তু অডিটে দেখা গেছে, বিভিন্ন স্টেশনের প্রায় ১৬৯টি অ্যাডমিন অ্যাকাউন্ট পরিচালনা করছেন সহজের কর্মীরা।
amardesh24.com









