লজ্জা, কুসংস্কার ও সামাজিক বৈষম্য দূর করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।আজ শনিবার ‘বিশ্ব মানসিক স্বাস্থ্য দিবস-২০২৬’ উপলক্ষে দেওয়া এক বিশেষ বাণীতে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, কেবল শারীরিকভাবে নীরোগ থাকাই পূর্ণাঙ্গ স্বাস্থ্য নয়; বরং শারীরিক, মানসিক, আত্মিক ও সামাজিকভাবে ভালো থাকার সমন্বিত রূপই হলো প্রকৃত স্বাস্থ্য। ফলে কোনো অবস্থাতেই মানসিক স্বাস্থ্যকে অবহেলা করার অবকাশ নেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মানসিক স্বাস্থ্য কেবল চিকিৎসাকেন্দ্রিক কোনো বিষয় নয়; এটি মানুষের আত্মমর্যাদা, পারিবারিক শান্তি ও জাতীয় কল্যাণের সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত। মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত কাউকে অবহেলা বা সমাজবিচ্ছিন্ন না করে তাঁদের অনুভূতির প্রতি সহমর্মী হওয়া এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা সহজ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এ বছরের প্রতিপাদ্য—‘বাস্তব জীবনের অভিজ্ঞতার কথা শোনা: বাস্তব কণ্ঠস্বর, বাস্তব পরিবর্তন’-এর কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যাঁরা মানসিক স্বাস্থ্যজনিত সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছেন, তাঁদের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দিয়ে শোনা ও গ্রহণ করাই ইতিবাচক পরিবর্তনের মূল ভিত্তি।
তৃণমূল পর্যায়ে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণে গৃহীত সরকারি পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে তিনি জানান, প্রান্তিক জনগণের কাছে সেবা পৌঁছে দিতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে সমন্বিত রেফারেল ব্যবস্থা, টেলি-কাউন্সেলিং, চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিশেষ প্রশিক্ষণ এবং হাসপাতালগুলোতে বিশেষজ্ঞ জনবল বৃদ্ধির কাজ জোরদার করা হয়েছে। এ ছাড়া গর্ভবতী মা ও শিশু-কিশোরদের শারীরিক-মানসিক সুস্থতা এবং বিদ্যালয়ভিত্তিক মানসিক যত্ন নিশ্চিতে সরকার বিশেষ জোর দিচ্ছে।
মানসিক স্বাস্থ্যসেবায় নিয়োজিত পেশাজীবীদের আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার সঙ্গে সেবা দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সম্মিলিত উদ্যোগে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে, যেখানে মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কথা বলতে কেউ দ্বিধা বা লজ্জা বোধ করবে না।
amardesh24.com









