আমারদেশ২৪ ডেস্ক।
সাজেক সড়কে অবরোধের কারণে আটকে পড়া ২ হাজার ৯৩৩ জন পর্যটককে বিশেষ নিরাপত্তায় খাগড়াছড়ির উদ্দেশে পাঠানো হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর নিরাপত্তা প্রহরায় পর্যটকবাহী যানবাহনগুলো সাজেক থেকে বাঘাইহাটের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে তাঁদের খাগড়াছড়িতে পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।
এর আগে সকাল ৬টার দিকে সাজেক সড়কের বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে অবরোধ শুরু করেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। এতে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয় এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দেয়।
এ পরিস্থিতিতে বুধবার (২১ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ রাখার কথা জানানো হয়। পাশাপাশি সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টার মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
এর আগে বুধবার বিকেলে অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধের ঘোষণা দেয় সাজেক কার্বারী অ্যাসোসিয়েশন ও সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি। সংগঠন দুটির সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও আহ্বায়ক বাবুধন চাকমা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বৃহস্পতিবার থেকে কর্মসূচি শুরুর কথা জানানো হয়।
অবরোধের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, লাশবাহী গাড়ি, জরুরি ওষুধ সরবরাহকারী যানবাহন এবং সংবাদপত্র ও সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত গাড়ি।
সংগঠন দুটির দাবি, সাজেক থেকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (পিসিজেএসএস) সন্তু গ্রুপের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে, সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করতে হবে, স্থানীয়দের হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শন বন্ধ করতে হবে এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। এসব দাবিতে তারা অবরোধ কর্মসূচি পালন করছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবর সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। ওই দিন সন্ধ্যায় পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা উল্লেখ করে সাজেক পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ ঘোষণা করে জেলা প্রশাসন। পরে ১৫ অক্টোবর আবার অবরোধ শুরু হলেও দুর্গাপূজা উপলক্ষে ১৬ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত কর্মসূচি স্থগিত রাখা হয়।
সাজেক রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। পর্যটনকে কেন্দ্র করে সেখানে হোটেল, কটেজ, পরিবহন ও স্থানীয় পণ্যের ব্যবসা গড়ে উঠেছে।
amardesh24.com







