তাহসিফ সাউরিকে (২৭) গত ২৭ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টার দিকে বাসা থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যান শাহরিয়ার রেজা দীপ (২৩)। এরপর তাঁরা দুজন ও এক তরুণী একসঙ্গে একটি গ্যারেজে গিয়ে মোটরসাইকেলের কাজ করান, সেদিন সন্ধ্যায় তাঁরা একাধিকবার সিপি ফাইভ স্টার স্ন্যাকসে যান পরে রাতে উত্তরার একটি রেস্তোরাঁয় গিয়ে বিয়ার পান করেন। একপর্যায়ে ওই তরুণী বাসায় ফিরে যান, রাত ১২টা ৪০ মিনিটে তাহসিফ ও দীপ টঙ্গীর মাজার বস্তিতে পৌঁছান, সেখান থেকে তাঁরা বস্তির ভেতর দিয়ে তুরাগ নদের তীরের একটি মাঠে যান। সেখানে কয়েকজন লোককে দেখে দুজন আলাদা হয়ে যান।
তাহসিফ সাউরি হত্যা মামলায় আজ বৃহস্পতিবার দীপকে তৃতীয় দফায় ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা টঙ্গী নৌ পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক ফিরোজ উদ্দিন, আবেদনে বলা হয়, আগের ২ দফায় রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদের সময় দীপ এসব তথ্য দিয়েছেন।
নতুন করে রিমান্ডে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আবেদনে বলা হয়, মামলার ঘটনা সম্পর্কে শাহরিয়ার রেজা দীপ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন, সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে, তবে একাধিক প্রশ্নের উত্তর তিনি কৌশলে এড়িয়ে গেছেন এবং কিছু বিষয়ে নীরবতা পালন করেছেন।
রিমান্ড আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ভুক্তভোগী ও আসামিদের চলাফেরা, খাওয়াদাওয়া, সিসিটিভি ফুটেজ এবং মোবাইল ফোনের কললিস্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, মৃত্যুর আগে তাহসিফ সাউরিকে সর্বশেষ দীপ ও ওই তরুণীর সঙ্গে দেখা গেছে। মামলার ঘটনায় তাঁরা কোনো না কোনোভাবে জড়িত বলে প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের স্বার্থে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত দীপকে কারাগারে আটক রাখা প্রয়োজন, জামিনে মুক্তি পেলে তিনি পালিয়ে গিয়ে তদন্তে বিঘ্ন ঘটাতে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁকে আবারও রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন জানান তদন্ত কর্মকর্তা।
তবে রিমান্ড বাতিলের আবেদন জানিয়ে দীপের আইনজীবী আদালতে বলেন, তাহসিফের মৃত্যুর সঙ্গে তাঁর মক্কেলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই, এ ঘটনা সম্পর্কে তিনি কিছুই জানেন না এবং নির্দোষ। তাঁকে বারবার রিমান্ডে নেওয়ার কোনো যৌক্তিকতা নেই।
এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী আদালতকে বলেন, এ ঘটনায় দীপের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় তিনি অত্যন্ত কৌশলে সব তথ্য এড়িয়ে যাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, শেখ হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) যখন পালিয়ে যান, তাহসিফ সাউরি সেই ভিডিও দুপুর ১২টার পরই প্রচার করেন। এর মাধ্যমে মানুষ জানতে পারে, স্বৈরাচারী হাসিনা পালিয়েছেন।
তাহসিফ ভিডিওটি ধারণ না করলে তাঁর পালিয়ে যাওয়ার দৃশ্য অজানাই থেকে যেত। তাহসিফকে হত্যার পেছনে অন্য কোনো ইন্ধন বা সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না এবং হত্যার কারণ কী, তা উদ্ঘাটনে দীপকে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।
সবশেষে রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে আদালত তাহসিফ সাউরির ‘বন্ধুস্থানীয় ছোট ভাই’ আহমেদ শাহরিয়ার রেজা দীপের ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
amardesh24.com









