(এনসিপি) থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন আজ বৃহস্পতিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে তিনি এ তথ্য জানান।
সামান্তা তাঁর পোস্টে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে এনসিপির জোট, জাতীয় সংস্কার, নির্বাচন, নারীর অধিকার, বাংলাদেশের কূটনীতি এবং এনসিপির পুনর্গঠন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, যে আদর্শ ও লক্ষ্য নিয়ে এনসিপি গঠিত হয়েছিল, বর্তমানে দলটি সেই অবস্থান থেকে সরে এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন দর্শনে এগিয়ে যাচ্ছে।
পোস্টে বিভিন্ন বিষয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশের পাশাপাশি দলটির নেতৃত্বের প্রতি একাধিক প্রশ্নও তুলে ধরেছেন তিনি। সামান্তার দাবি, এখনো পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। দল-মতের ঊর্ধ্বে উঠে তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে নতুন ধারার গণতান্ত্রিক রাজনীতি শুরু করতে পারলেই বাংলাদেশকে নতুন এক সম্ভাবনার জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব।পাঠকদের সুবিধার জন্য তাঁর পোস্টটি হুবহু তুলে ধরা হলো—কিছুক্ষণ আগে জাতীয় নাগরিক পার্টি থেকে আমি পদত্যাগ করেছি।
আপনারা জানেন আজ থেকে প্রায় এক বছর আগে আমি জাতীয় নাগরিক পার্টির জোট গঠনের প্রশ্নে একটা আলাদা অবস্থান নিয়েছিলাম। আমি বলেছিলাম জামায়াত ইসলামী নীতিগত বা কৌশলগত কোন ক্ষেত্রেই মিত্র হওয়ার যোগ্য না এবং তাদের সাথে জোট করার জন্য এনসিপিকে কঠিন মূল্য চুকাতে হবে।
গত ১১ মাস যাবত আমার রাজনৈতিক বোঝাপড়া অনুযায়ী এনসিপির অতীত কর্মকান্ড বিশ্লেষণ ও ভবিষ্যৎ কর্মপন্থা নিয়ে যখনই সুযোগ পেয়েছি তখনই দলের বিভিন্ন পর্যায়ে লিখিত অভিযোগ ও প্রস্তাব প্রদান এবং তর্ক- বিতর্ক বা আলাপ- আলোচনা করেছি। যেহেতু সংগঠনে নানান চড়াই উৎরাই থাকে, সেখানে দল যদি ভুল পথে যায় সেই পথ থেকে দলকে রক্ষা করার চেষ্টা করা আমার রাজনৈতিক কর্তব্য ছিল। সেই কর্তব্য পালন করতে এনসিপির অভ্যন্তরে মতাদর্শিক সংগ্রামকেই বেছে নিয়েছিলাম। কারণ দলের গৃহীত নীতিসমূহকে স্বীকৃত ফোরামগুলোতে যুক্তিসঙ্গত উপায়ে চ্যালেঞ্জ করা ব্যতীত দলকে ভুল পথ থেকে ফিরিয়ে আনার ভিন্ন কোন গণতান্ত্রিক পন্থা ছিলনা। আজ প্রায় এক বছরের এই সংগ্রামের ইতি ঘোষণা করলাম কারণ এনসিপির পক্ষে তার দলের প্রারম্ভের মূল্যবোধের প্রতি আর আন্তরিক হওয়া সম্ভব বলে মনে করি না।
পদত্যাগ করার জন্য আমি হয়তো আরো উপযোগী সময়ের জন্য অপেক্ষা করতে পারতাম, যখন দলের কোন একটি সিদ্ধান্ত বা কর্মকান্ডের প্রতিক্রিয়া হিসেবে আমার পদত্যাগকে মূল্যায়ন করা সহজ হতো কিন্তু আমি মনে করি এই অপেক্ষা অর্থহীন। এনসিপি কখনো কখনো নানান ধরনের রাজনৈতিক ভূমিকা নিতেই পারে (এমনকি জামায়াতের সাথে জোট ত্যাগ করার মতো সিদ্ধান্ত) কিন্তু তবুও পুরোনো রাজনৈতিক ধাঁচের বাইরে নিজস্ব পরিচয়, চিন্তা ও কর্মসূচী তৈরি করতে পারবে বলে আমি মনে করি না। দ্ব্যর্থহীন কন্ঠে বলতে চাই, পুরোনো ব্যবস্থার রাজনৈতিক দল কখনোই রাষ্ট্রের নতুন ব্যবস্থা আনার জন্য সহায়ক হবে না বরং বাধা হয়ে দাঁড়াবে।
amardesh24.com









