আমারদেশ২৪ নিউজ ডেস্ক:
শনিবার, ১৪ জুন, ২০২৫
ঈদুল আজহার দীর্ঘ ১০ দিনের ছুটি প্রায় শেষ। আগামীকাল রোববার থেকে পুরোদমে খুলে যাবে অফিস আদালত কল-কারখানা। এ জন্য ঢাকায় ফিরতে শুরু করেছে কর্মজীবী মানুষ। তবে বেসরকারি অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা ঈদে ছুটি না পাওয়ায় অনেকে এখন ঢাকা ছাড়ছেন।
শুক্রবার সকাল থেকেই রাজধানীর বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে হাজার হাজার মানুষকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে রাজধানীতে প্রবেশ করতে দেখা গেছে।প্রত্যেকেই পরিবারের মায়া, ঈদের আনন্দ আর গ্রামের স্মৃতি বুকে নিয়ে ফিরছেন ঢাকায়। হাতে লাগেজ, চোখে ক্লান্তি তবু সামনে এগিয়ে চলার তাড়া যেন সবাইকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে।
এর আগে শুক্রবার দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানীর টার্মিনালগুলোতে গাড়ি ঢুকতে দেখা গেছে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়িও অন্যদিনের চেয়ে বেশি প্রবেশ করছে ঢাকায়। রাজধানীমুখী ট্রেনেও যাত্রীদের চাপ লক্ষ করা গেছে। যাত্রীদের চাপ ও ব্যক্তিগত গাড়ি বেশি থাকলেও কোথাও ভোগান্তির চিত্র দেখা যায়নি। ঢাকায় সড়কে ছিল না যানজট। যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর, গাবতলী, গুলিস্তান ও সায়েদাবাদ এলাকায় ঢাকায় ফেরা মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো।
যাত্রাবাড়ী, কমলাপুর এলাকার বিভিন্ন বাস স্টপেজে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা যাত্রীদের নামিয়ে বাসগুলো আবার নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাচ্ছে। শ্যামলী, গ্রিন লাইন, সোহাগ, স্টার লাইন, লাল সবুজ, এনা ও ইকোনোসহ বড় বড় বাস কোম্পানিগুলোর বাসের আধিক্য দেখা যায়। সঙ্গে লোকাল বাসে করেও আসছে অনেক যাত্রী। এ সময়ে যারা ঢাকায় আসছেন তাদের অনেকেই অগ্রিম টিকেট সংগ্রহ করেছিলেন।
ঢাকার টার্মিনালগুলোতে দেখা গেছে খুলনা, রাজশাহী, বরিশাল, খুলনা, চট্টগ্রাম, সিলেটসহ দেশের নানা প্রান্ত থেকে যাত্রী নিয়ে একের পর এক বাস ঢুকছে রাজধানীতে। এসব বাস থামছে গাবতলী, মহাখালী, যাত্রাবাড়ী, সায়েদাবাদ, কমলাপুর, ফকিরাপুল, জুরাইন, শনিরআখড়া, রায়েরবাগ ও কাজলা এলাকায়।
যাত্রীদের অনেকে জানান, অগ্রিম টিকেট কাটতে না পারায় তারা লোকাল বাসে করে ঢাকায় এসেছেন।
বাস থেকে নেমে কেউ রিকশা, কেউ সিএনজি-অটোরিকশা, আবার কেউ ঢাকার লোকাল বাসে করে গন্তব্যে যান। কেউ কেউ যান মতিঝিলে মেট্রোরেলের স্টেশনের দিকে। আবার কেউ মোটরসাইকেলে চড়ে বসেন।
শুক্রবার সকালে সদরঘাট এলাকায় হাজার হাজার মানুষকে ফিরতে দেখা গেছে। সকাল ৮টার দিকে গ্রামফেরত মানুষের চাপে ভিক্টোরিয়া পার্ক ও গুলিস্তান এলাকায় যানবাহনের চাপে যানজটের সৃষ্টি হয়।
শুক্রবার গাবতলী বাস টার্মিনাল ও আমিনবাজার এলাকায় দেখা গেছে রাজধানীতে বাসে প্রবেশ ও প্রস্থান-দুই দিকেই যাত্রীর সংখ্যা প্রায় সমান। বেশ কয়েকটি বাস কাউন্টারে দেখা যায়, যাত্রীদের তেমন ভিড় নেই। বেশির এরপর পৃষ্ঠা ১১ কলাম ৪
রাজধানীতে ফিরছে মানুষ ভাগ বাসেই যাত্রী অর্ধেকের মতো। কাউন্টার মাস্টাররা বলেন, অনেকে এখনও ঢাকার বাইরে যাচ্ছেন, আবার ফিরেও আসছেন অনেকে।
গাবতলী বাস টার্মিনালে প্রবেশের শুরুতেই থাকা হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টার থেকে জানানো হয়, এখনও বিপুল সংখ্যক মানুষ ঢাকার বাইরে যাচ্ছে। ভোরের দিকের বাসগুলোতে যাত্রীসংখ্যা একটু বেশি থাকে। এরপর সকাল ১০টা থেকে মোটামুটি বিকাল পর্যন্ত যাত্রীর চাপ একটু কম থাকে। তবে বিকাল-সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত গাড়িগুলোতে ঈদ ছাড়া স্বাভাবিক দিনগুলোর মতোই যাত্রী আছে।
অন্যদিকে আমিনবাজার সেতু পার হয়ে কিছু সময় পরপরই ঢাকায় প্রবেশ করছিল বিভিন্ন কোম্পানির বাস। বাসগুলো আসার পথে বিভিন্ন গন্তব্যে যাত্রী নামালেও বেশির ভাগ যাত্রীকেই আমিনবাজার সেতু পার হয়ে কাউন্টারগুলোর সামনে নামতে দেখা গেছে। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে আসা হানিফ এন্টারপ্রাইজের একটি বাস গাবতলী বাসস্ট্যান্ডের বিপরীত পাশের কাউন্টারের সামনে এসে দাঁড়ায়।
গাড়ির চালক জানান, গতকাল রাতে দিনাজপুর থেকে ছেড়ে মাত্র ঢাকায় এলাম। বাসটি যাত্রীবোঝাই ছিল। আশুলিয়া ও সাভারসহ অন্যান্য স্থানে অনেক যাত্রী নেমে গেছেন। তিনি আরও জানান, গত দুয়েক দিন ধরে দিনাজপুর যাওয়ার সময়ও মোটামুটি ভালোই যাত্রী হচ্ছে। অন্যদিকে ঈদুল আজহার সপ্তম দিন শুক্রবার সকাল থেকে ঢাকার সড়কগুলো ছিল অনেকটাই ফাঁকা। ছিল না অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ।
রামপুরা এলাকায় দায়িত্বরত ট্রাফিক সফিকুল ইসলাম বলেন, সকাল থেকে জ্যাম নেই। প্রতিটি জায়গায় ট্রাফিক সদস্য রয়েছেন। তবে আগামীকাল (শনিবার) সবচেয়ে বেশি মানুষ ঢাকায় ঢুকবে। অতীতেও লম্বা ছুটির শেষ দিনেই বেশি চাপ লক্ষ করা গেছে।
অন্যদিকে শুক্রবার সকাল থেকেই কমলাপুর রেলস্টেশন ও আশপাশের এলাকায় ঢাকামুখী যাত্রীর চাপ সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে একের পর এক ট্রেন কমলাপুরে এসে পৌঁছাচ্ছে। ট্রেন থেকে নামার পর যাত্রীরা সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ব্যাটারিচালিত যানবাহন, মোটরসাইকেল কিংবা বাসে করে নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হচ্ছেন। দেখা যায়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ছেড়ে আসা ট্রেনগুলো নির্ধারিত সময়েই ঢাকায় পৌঁছাচ্ছে। যদিও ঈদের সরকারি ছুটি শেষ হতে এখনও এক দিন বাকি, তবে অনেকে এখনই রাজধানীতে ফিরছেন।
প্রতিটি ট্রেনেই দেখা গেছে ভিড়, অনেক যাত্রী দাঁড়িয়ে ভ্রমণ করছেন। স্টেশনে টিকেট ছাড়া কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। টিকেট না থাকলে যাত্রীদের জরিমানাও করা হচ্ছে। ফিরতি যাত্রীরা জানিয়েছেন, শেষ মুহূর্তের ভিড় এড়াতে আগেভাগেই তারা ঢাকায় ফিরছেন।অন্যদিকে এখনও অনেক যাত্রী ঢাকা ছাড়ছেন। তবে শহর ছাড়ার যাত্রায় অতিরিক্ত চাপ নেই। ট্রেনগুলো অনেকটাই ফাঁকা যাচ্ছে।









