নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
নাটোর মহাসড়কে দুর্ঘটনায় এক শিশু আহত। পেশাদার ক্রীড়াবিদদের রাজনীতিতে না জড়ানো আহবান: প্রধান মন্ত্রী। যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর একটি অত্যাধুনিক ই-থ্রি সেন্ট্রি (E-3 Sentry) রাডার বিমান ধ্বংস হয়েছে। তেল শোধনাগারে ভয়াবহ আগুন। সাগরীকা কারখানায় ভয়াবহ আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ৮ ইউনিট। মিটার চার্জ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে: সরকার। নতুন জেলা প্রশাসক নিয়োগ দিয়েছে ১১ জেলায়: সরকার। দীঘিনালায় জ্বালানি সংকট ও অতিরিক্ত ভাড়ার বিরুদ্ধে সেনা-পুলিশের যৌথ অভিযানে। দিলারা হাফিজের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন: প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গভীর অবিশ্বাসের বহুমাত্রিক প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গভীর অবিশ্বাসের বহুমাত্রিক প্রতিফলন।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক।

সাম্প্রতিক সামরিক হামলার প্রেক্ষাপটে ইরানের রাজনীতিতে নতুন এক মোড় স্পষ্ট হয়ে উঠছে। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি, অর্থাৎ পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি –এর সদস্যপদ থেকে সরে যাওয়ার ভাবনা এখন তেহরানের ক্ষমতার কেন্দ্রে আলোচনার বিষয়। এটি কেবল তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া নয়; বরং নিরাপত্তা উদ্বেগ, কূটনৈতিক চাপ ও আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার ওপর গভীর অবিশ্বাসের বহুমাত্রিক প্রতিফলনসবার আগে উঠে এসেছে নিরাপত্তা সংকটের বিষয়টি। আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা–এর তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলায় ইরানের একাধিক পারমাণবিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা তেজস্ক্রিয় নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের শঙ্কা তৈরি করেছে। নাতাঞ্জ, ইসফাহান ও আরাকের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে আঘাতের পর তেহরান মনে করছে, এই চুক্তির সদস্য হয়েও তারা প্রত্যাশিত সুরক্ষা পাচ্ছে না।

একের পর এক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে ইরান। তাদের অভিযোগ, এই সংস্থা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি এবং হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সংসদ সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক নজরদারি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।

এদিকে, কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এই সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইরান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে।

একই সঙ্গে বাস্তবতা হলো, সামরিক হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই সক্ষমতা তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে চুক্তির বিধিনিষেধ থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার আত্মবিশ্বাসও তেহরানের মধ্যে বাড়ছে।

অন্যদিকে, বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুন করে সাজানোর চেষ্টাও লক্ষণীয়। পশ্চিমা বলয়ের বাইরে গিয়ে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা– এর মতো জোটের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে ইরান। এতে বিকল্প কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা ইরানের জন্য কেবল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয়; এটি তাদের নিরাপত্তা সংকট, আন্তর্জাতিক অবিশ্বাস এবং নতুন জোট গঠনের প্রচেষ্টার সম্মিলিত প্রতিফলন। তবে এই পথে এগোলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা ভারসাম্যও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।

আমারদেশ২৪ নিউজ।

 

আরও পড়ুন