আন্তর্জাতিক ডেস্ক।
একের পর এক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলছে ইরান। তাদের অভিযোগ, এই সংস্থা নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে পারেনি এবং হামলার বিরুদ্ধে কার্যকর অবস্থান নেয়নি। এই প্রেক্ষাপটে ইরানের সংসদ সংস্থাটির সঙ্গে সহযোগিতা সীমিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে আন্তর্জাতিক পরিদর্শন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা বৈশ্বিক নজরদারি ব্যবস্থাকে দুর্বল করে দিতে পারে।
এদিকে, কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টির কৌশল হিসেবেও বিষয়টি দেখা হচ্ছে। এই সংস্থার মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি সতর্ক করে বলেছেন, আলোচনার পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক পারমাণবিক নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তি ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে ইরান মূলত পশ্চিমা শক্তিগুলোর ওপর চাপ বাড়াতে চাইছে।
একই সঙ্গে বাস্তবতা হলো, সামরিক হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হলেও ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা পুরোপুরি নষ্ট হয়নি। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, এই সক্ষমতা তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যেই পুনর্গঠন করা সম্ভব। ফলে চুক্তির বিধিনিষেধ থেকে বেরিয়ে এসে নিজেদের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়ার আত্মবিশ্বাসও তেহরানের মধ্যে বাড়ছে।
অন্যদিকে, বিশ্ব রাজনীতিতে নিজেদের অবস্থান নতুন করে সাজানোর চেষ্টাও লক্ষণীয়। পশ্চিমা বলয়ের বাইরে গিয়ে ব্রিকস এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা– এর মতো জোটের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতে চাইছে ইরান। এতে বিকল্প কূটনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সহযোগিতার নতুন দিগন্ত খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
সব মিলিয়ে, এই চুক্তি থেকে সরে যাওয়ার চিন্তা ইরানের জন্য কেবল একটি কৌশলগত পদক্ষেপ নয়; এটি তাদের নিরাপত্তা সংকট, আন্তর্জাতিক অবিশ্বাস এবং নতুন জোট গঠনের প্রচেষ্টার সম্মিলিত প্রতিফলন। তবে এই পথে এগোলে শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, গোটা বিশ্বের নিরাপত্তা ভারসাম্যও নতুন করে অনিশ্চয়তার মুখে পড়তে পারে।
আমারদেশ২৪ নিউজ।









