দেশের প্রায় জেলাতে গ্যাস সংকটে চরম ভোগান্ত দেখা দিয়েছে গতকাল রোববার ও শনিবার সন্ধ্যা থেকে জেলাজুড়ে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকায় আবাসিক গ্রাহক, গণপরিবহন ও শিল্প-কারখানার মালিকরা অবর্ণনীয় দুর্ভোগে পড়েছেন।বাসা-বাড়ী, রেস্টুরেন্টে রান্নায় দুর্ভোগ ছাড়াও সিএনজিচালিত যানবাহনও পড়ে ভীষণ বিপাকে। এতে করে রাস্তাঘাটে যাত্রিরাও ভোগান্তির শিকার হন।
গ্যাস না থাকায় শিল্প-কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে পড়েছে জেলার ৪৫০টিরও অধিক বাণিজ্যিক সংযোগ এবং ৩২ হাজারের বেশি আবাসিক সংযোগে গ্যাস সরবরাহ না থাকায় বিপাকে পড়েছে সাধারণ মানুষ।
ভুক্তভোগিরা জানান, শনিবার রাত থেকে জেলা জুড়ে গ্যাসের তীব্র সংকট দেখা দেয়। রোববার ভোরে অনেকেই ঘুম থেকে উঠে হঠাৎ গ্যাস না থাকায় বিপাকে পড়েন সকালের নাস্তার জন্য অনেককে শহরে বিভিন্ন রেস্টুরেন্টে ভিড় করতে দেখা যায়
একই অবস্থা হয় দুপুরের খাবারেও, অনেক রেস্টুরেন্টে খাবার সংকট দেখা দেয়। ফেনী শহরের বাসিন্দা সালাম ফরায়েজী জানান, গ্যাস না থাকায় দুপুরে রান্না হয়নি শহরের নবী হোটেল থেকে পরিবারের চার সদস্যদের জন্য খাবার এনেছি।
পাঠান বাড়ি এলাকার গৃহিনী ফাতেমা আক্তার মুন্নী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, বাসায় তিন রকমের রান্নার ব্যবস্থা রাখতে হয়েছে- লাইন গ্যাস, সিলিন্ডার আর ইলেকট্রিক চুলা। তিন জায়গায় খরচ দিয়ে সংসার চালানো এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, একদিকে চুলায় গ্যাস নেই, অন্যদিকে সিলিন্ডার বিক্রেতারা এই সুযোগে কৃত্রিম সংকট বানিয়ে ইচ্ছেমতো দাম হাঁকাচ্ছে। তদারকি করার কেউ নেই, আমরা দ্বিগুণ খরচের চাপে পিষ্ট হচ্ছি। দ্রুত গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকাই কঠিন হয়ে পড়বে।
বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর লালপুল এলাকার ‘স্টার লাইন সিএনজি ফিলিং স্টেশন’ সহ অন্যান্য স্টেশনগুলোতে গ্যাসের অপেক্ষায় যানবাহনের দীর্ঘ সারি দেখা গেছে।সিএনজি অটোচালক আবদুল জলিল বলেন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। সরকার দ্রুত গ্যাস না দিলে আমরা পরিবার নিয়ে না খেয়ে মরবো।
বাখরাবাদ গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) প্রকৌশলী মো. আখতারুজ্জামান জানান, জাতীয় গ্রিড থেকে পর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় ফেনীতে গ্যাস বিতরণ কার্যক্রম সাময়িক বন্ধ রাখতে হয়েছে।
amardesh24.com









