ছাত্র-জনতার আন্দোলনের স্মৃতি তুলে ধরে আবেগঘন একটি পোস্ট দিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধ। আন্দোলনের সময় ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তোলা একটি ছবি প্রকাশ করে তিনি সেই সময়ের ভয়, অনিশ্চয়তা, সাহস এবং মানুষের ঐক্যের কথা স্মরণ করেছেন। একই সঙ্গে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানিয়েছেন এই অভিনেত্রী।
নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে প্রকাশিত পোস্টে বাঁধন লিখেছেন, ছবিটি এমন এক সময়ের স্মারক, যা তাদের জীবনকে চিরদিনের জন্য বদলে দিয়েছে। তার ভাষ্য, যারা দূর থেকে সেই সময়ের ঘটনাগুলো দেখেছেন, তারা রাজপথে দাঁড়িয়ে থাকা মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতা পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবেন না।
তিনি লেখেন, এই ছবিটি এমন এক সময়ের ভার বহন করে, যা আমাদের চিরতরে বদলে দিয়েছে।
এরপর তিনি সেই সময়ের পরিস্থিতির বর্ণনা দিয়ে বলেন, যারা সেই দিনগুলো দূর থেকে-জানালার ওপাশ থেকে, টেলিভিশনের পর্দা থেকে, বা আরামদায়ক সোফায় বসে-দেখেছিলেন, তাদের কেউই সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারেননি রাস্তায় দাঁড়ানোর মানে কী ছিল। ভয়টা ছিল সত্যি। অনিশ্চয়তাটা ছিল সত্যি। কিন্তু সাহসটাও ছিল সত্যি। আর সর্বোপরি, ঐক্যটাও ছিল সত্যি।
আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রশংসা করে বাঁধন বলেন, তাদের সাহস ও ঐক্য একটি জাতিকে নতুনভাবে জাগিয়ে তুলেছিল। পোস্টে তিনি লেখেন, আমি ছাত্র-ছাত্রীদের চিরকাল স্যালুট জানাব। তারাই একটি জাতিকে জাগিয়ে তুলেছিল, অপরিচিতদের একত্রিত করেছিল এবং আমাদের মনে করিয়ে দিয়েছিল যে আশা ভয়ের চেয়েও জোরালো হতে পারে।
ছবিটি প্রসঙ্গে অভিনেত্রী জানান, ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তিনি বাংলাদেশের জনগণ এবং আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে উপস্থিত ছিলেন। আজ সেই ছবির দিকে তাকালে তিনি শুধু একটি স্থির মুহূর্তই দেখেন না, বরং সেই সময়ের কণ্ঠস্বর, রাজপথের স্পন্দন এবং সম্মিলিত বিশ্বাসের শক্তিও অনুভব করেন।
বাঁধনের ভাষায়, এই ছবিটি ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট শহীদ মিনারে তোলা, যখন আমি বাংলাদেশের জনগণ এবং ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করে দাঁড়িয়েছিলাম। আজ এই ছবিটির দিকে তাকিয়ে আমি শুধু সময়ের একটি স্থির মুহূর্তই দেখি না-আমি কণ্ঠস্বরগুলো শুনতে পাই, রাস্তার স্পন্দন অনুভব করি এবং সেই বিশ্বাসকে স্মরণ করি যে আমরা একসঙ্গে ইতিহাসের গতিপথ বদলে দিতে পারি।
পোস্টটি প্রকাশের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার অনুসারী ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের মধ্যে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই জুলাই আন্দোলনের স্মৃতি স্মরণ করে শিক্ষার্থীদের ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।
amardesh24.com









