বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক হামলায় তেল উৎপাদনে কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব পড়েনিবলে জানিয়েছে সৌদি আরবের রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকো। প্রতিষ্ঠানটির প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী আমিন এইচ. নাসের বলেছেন, হামলায় কোম্পানির কার্যক্রম ও উৎপাদন সক্ষমতা স্বাভাবিক রয়েছে।আজ মঙ্গলবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
আমিন এইচ. নাসের বলেন, জুলাই মাসে লোহিত সাগর উপকূলসহ বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের হামলা হলেও এতে আরামকোর কার্যক্রমে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। তিনি বলেন, “হুথিদের হামলা আমাদের উৎপাদন সক্ষমতায় কোনো উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলেনি।”
আরামকোর তথ্য অনুযায়ী, চলমান আঞ্চলিক সংঘাত ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন সত্ত্বেও ২০২৬ সালের দ্বিতীয় প্রান্তিকে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেড়েছে। এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত সময়ে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানিটি ৩২ দশমিক ৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার নিট মুনাফা করেছে।
প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, অপরিশোধিত তেলের উচ্চমূল্য এবং পরিশোধিত ও রাসায়নিক পণ্যের বিক্রি বৃদ্ধি এই মুনাফা বৃদ্ধির প্রধান কারণ।এর আগে সৌদি আরবের সরকারি পরিসংখ্যানে জানানো হয়, দেশটির তেল উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এর প্রভাবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে সৌদি আরবের প্রকৃত মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ৪ দশমিক ৮ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এদিকে গত ৩০ জুলাই সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি বহুজাতিক সামুদ্রিক প্রতিরক্ষা জোট গঠন করা হয়েছে। এই জোট ভারত মহাসাগর থেকে ভূমধ্যসাগর পর্যন্ত কৌশলগত নৌপথে নিরাপদ নৌচলাচল নিশ্চিত করতে কাজ করবে।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে বৈশ্বিক উদ্বেগ বেড়েছে। একই সময়ে ইরান-সমর্থিত হুথি যোদ্ধারা বাব আল-মান্দেব প্রণালি, লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরের বিভিন্ন নৌপথে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে আসছে, যা আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও বাণিজ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করেছে।
amardesh24.com









