বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইংল্যান্ডের সাদা বলের কোচিং প্যানেলে সাবেক তারকা ব্যাটার কেভিন পিটারসেনকে যুক্ত করেছে ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড।৪৬ বছর বয়সি পিটারসেন দলের ‘স্পেশালিস্ট মেন্টর’ হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ইংল্যান্ডের আসন্ন টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ দিয়েই নতুন এই দায়িত্বে তার পথচলা শুরু হবে।
পিটারসেনের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা সফর, আগামী গ্রীষ্মে পাকিস্তান ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজ এবং দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ায় অনুষ্ঠেয় ২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপেও দলের সঙ্গে থাকবেন তিনি।
ইংল্যান্ডের সাদা বলের প্রধান কোচ ব্রেন্ডন ম্যাককালাম পিটারসেনকে কোচিং প্যানেলে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পিটারসেন ও ক্রিকেটে তার অর্জনের প্রতি তার গভীর শ্রদ্ধা রয়েছে। ইংলিশ ক্রিকেটে পিটারসেনের প্রভাবও অসাধারণ বলে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতো অভিজ্ঞ ও ক্রিকেটজ্ঞানসম্পন্ন একজনকে দলের সঙ্গে পাওয়াকে বড়ো অর্জন হিসেবেও দেখছেন ম্যাককালাম।
সাদা বলের ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের অন্যতম সফল ব্যাটার হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন পিটারসেন। ২০১০ সালে ইংল্যান্ডের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখার পাশাপাশি টুর্নামেন্টসেরাও নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। টি-টোয়েন্টিতে এক হাজারের বেশি রান করা ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে তার ব্যাটিং গড় সবচেয়ে বেশি। ওয়ানডেতেও তার পরিসংখ্যান ছিল উল্লেখযোগ্য। ৪১.৩২ গড়ে প্রায় সাড়ে চার হাজার রান করেছেন তিনি, যা ইংলিশ ব্যাটারদের মধ্যে জো রুটের পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
তবে মাঠের সাফল্যের পাশাপাশি পিটারসেনের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ার নানা বিতর্কেও জড়িয়েছে। ইংল্যান্ডের ড্রেসিংরুমে বিভাজন তৈরির অভিযোগও উঠেছিল তার বিরুদ্ধে। ২০১২ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজ চলাকালে প্রতিপক্ষের কয়েকজন ক্রিকেটারের কাছে তৎকালীন ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যান্ড্রু স্ট্রসকে নিয়ে আপত্তিকর বার্তা পাঠানোর অভিযোগে দল থেকে বাদ পড়েন তিনি।
পরে বিশেষ পুনঃএকত্রীকরণ প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে আবারও ইংল্যান্ড দলে ফেরেন পিটারসেন। ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেট, বিশেষ করে আইপিএলে ইংলিশ ক্রিকেটারদের অংশগ্রহণের সুযোগ বাড়ানোর পক্ষেও তিনি বরাবরই সোচ্চার ছিলেন। এ নিয়ে বিভিন্ন সময়ে ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে তার মতবিরোধ তৈরি হয়েছে। অবসরের পর ধারাভাষ্যকার হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি আইপিএলের দল দিল্লি ক্যাপিটালসের মেন্টর হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এই ব্যাটার।
ইংল্যান্ডের নতুন দায়িত্ব পেয়ে নিজের উচ্ছ্বাসের কথাও জানিয়েছেন পিটারসেন। তিনি বলেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় বিশ্বকাপ জয়ের লক্ষ্যে দলকে সহযোগিতা করার সুযোগ পেয়ে তিনি গর্বিত। ২০১৪ সালের পর আবারও ইংল্যান্ডের জার্সির সঙ্গে যুক্ত হওয়ার বিষয়টিকে নিজের জন্য বড়ো সম্মান ও বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, বর্তমান ইংল্যান্ড দলটি অত্যন্ত প্রতিভাবান।
এর আগে ইংল্যান্ডের টেস্ট দলের কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন পিটারসেন। এমনকি অতীতে ম্যাককালামের কিছু কোচিং কৌশলের সমালোচনাও করেছিলেন তিনি। তবে এবার সেই ম্যাককালামের অধীনেই নতুন ভূমিকায় কাজ করতে যাচ্ছেন সাবেক এই তারকা। আগামী ১৫ সেপ্টেম্বর সাউদাম্পটনে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে শুরু হতে যাওয়া টি-টোয়েন্টি সিরিজ দিয়েই ইংল্যান্ড দলের সঙ্গে তার নতুন অধ্যায় শুরু হবে।
amardesh24.com









