কাজী জাহাঙ্গীর: চট্টগ্রাম।
চট্টগ্রামের খুলশী এলাকার একটি ৮ তলা ভবনের ১৪টি ফ্ল্যাটে ৪৫ দিন ধরে অবস্থান করছিলেন ৬৩ বিদেশি নাগরিক, ভবনটিতে কম্পিউটার, ল্যাপটপ সার্ভারসহ তথ্যপ্রযুক্তির বিভিন্ন সরঞ্জাম পাওয়া গেছে, এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অনলাইন প্রতারণার নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগে তাদের গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে নগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও খুলশী থানা-পুলিশের যৌথ অভিযানে জালালাবাদ আবাসিক এলাকার ভবনটি থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে লাওসের ৩৫ জন, পাকিস্তানের ২১ জন, চীনের ৫ জন, নেপালের ১ জন ও ভিয়েতনামের ১ জন নাগরিক রয়েছেন। তাদের কাছ থেকে ল্যাপটপ, মুঠোফোনসহ ১৭০টি ইলেকট্রনিক ডিভাইস উদ্ধার করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে দামপাড়া পুলিশ লাইনসের মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার (অপরাধ ও অভিযান) ফয়সাল আহম্মদ এসব তথ্য জানান।
পুলিশ জানায়, গ্রেফতার ব্যক্তিদের পাসপোর্ট ও ভিসা তাদের কাছে পাওয়া যায়নি, এসব নথি দেশীয় একটি চক্রের সদস্যদের কাছে রয়েছে বলে তারা জানিয়েছে। ওই চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
পুলিশের ভাষ্য, লাওস, ভিয়েতনাম ও কম্বোডিয়ায় অনলাইন প্রতারকদের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার হওয়ায় বাংলাদেশে এসে প্রতারণার কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দেশীয় একটি চক্রের সহায়তায় দেড় মাস আগে ভবনটির ১৪টি ইউনিট ভাড়া নেওয়া হয়। ভবনটির মালিক দুবাইপ্রবাসী।
অতিরিক্ত কমিশনার ফয়সাল আহম্মদ বলেন, ভবনটির বিভিন্ন ফ্ল্যাটে অনলাইন প্রতারণায় ব্যবহৃত সরঞ্জাম পাওয়া গেছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা অন্য কোনো বৈধ কাজের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ দেখাতে পারেননি। তারা কীভাবে বাংলাদেশে এসেছেন এবং তাদের ভিসার ধরন কী, তা জানতে বিশেষ শাখার কাছ থেকে তথ্য নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, বিভিন্ন ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণা এবং চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হতো। পাশাপাশি ব্যাংকসহ বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের লেনদেনের তথ্য হ্যাক করে অর্থ আত্মসাতের বিষয়টিও তদন্ত করা হচ্ছে।
তবে প্রতারণার সঙ্গে কারা কীভাবে যুক্ত এবং কী পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। উদ্ধার করা ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ফরেনসিক পরীক্ষার পর এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
নগর পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, গ্রেফতার ৬৩ জনকে চক্রের মাঠপর্যায়ের সদস্য বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। চক্রের মূল হোতাদের শনাক্ত করে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।
এ ঘটনায় খুলশী থানায় পুলিশ বাদী হয়ে সাইবার সুরক্ষা আইনে মামলা করেছে। খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আবদুর রহিম জানান, গ্রেফতার ৬৩ জনকে শুক্রবার আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হবে।
এর আগে ৩ সেপ্টেম্বর রাতে কক্সবাজার শহরের একটি হোটেলে অনলাইনভিত্তিক প্রতারণার অভিযোগে ছয় বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকে ১ হাজার ৯৩৮টি আইফোন, ৪০টি ল্যাপটপসহ বিভিন্ন যোগাযোগ সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছিল।কক্সবাজারের ওই ঘটনার সঙ্গে খুলশীর ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
amardesh24.com









