১১৬টি স্বয়ংক্রিয় জলযান পরিচালনা করে নতুন বিশ্বরেকর্ড গড়েছে চীনের একটি গবেষক দল। কোনো ধরনের মানবিক নিয়ন্ত্রণ ছাড়াই ক্ষুদ্র এসব জলযান নির্ধারিত পথে সমন্বিতভাবে চলাচল করেছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে গত ২৯ আগস্ট এ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে এটি ‘একসঙ্গে সবচেয়ে বেশি স্বয়ংক্রিয় জলযানের চলাচল’ হিসেবে বিশ্বরেকর্ডের স্বীকৃতি পায়।
নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি ও শি’আন তিয়ানহে মেরিটাইম টেকনোলজিসের যৌথ গবেষক দল এ রেকর্ড গড়েছে। পরীক্ষায় TH-৬১৮ মডেলের ১১৬টি আন্ডারওয়াটার অটোনমাস ভেহিকল পানিতে নামানোর পর স্বয়ংক্রিয়ভাবে সমন্বিতভাবে চলতে শুরু করে। প্রায় ৩৪ মিনিট স্থিতিশীলভাবে চলার পর জলযানগুলো ৫০০ মিটারের বেশি পূর্বনির্ধারিত পথ সফলভাবে অতিক্রম করে।
পানিতে নামানোর পর জলযানগুলোর নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি অনবোর্ড স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার হাতে চলে যায়। রিয়েল-টাইম ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তির মাধ্যমে প্রতিটি জলযান নিজস্ব অবস্থান ও আশপাশের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্ধারিত বিন্যাস বজায় রাখে। কোনোটি পথচ্যুত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তা সংশোধন করে আবার নির্ধারিত পথে ফিরে আসতে পারে।
পানির নিচে একসঙ্গে এতগুলো স্বয়ংক্রিয় যান পরিচালনা করা প্রযুক্তিগতভাবে বেশ কঠিন। সেখানে সাধারণ বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থা কার্যকর নয় এবং স্যাটেলাইট নেভিগেশনও ব্যবহার করা যায় না। এর পাশাপাশি পানির চাপ, কম দৃশ্যমানতা ও সীমিত পরিবেশগত তথ্যের মতো নানা চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হয়। এসব সীমাবদ্ধতার মধ্যেও ১১৬টি জলযানকে দীর্ঘ সময় ধরে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করাকে গবেষকেরা পানির নিচের স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
রেকর্ড গড়া TH-৬১৮ জলযানগুলোর প্রতিটির দৈর্ঘ্য ৬১ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার, প্রস্থ ২০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা ২৮ সেন্টিমিটার। প্রতিটির ওজন প্রায় ৫ দশমিক ১৪ কেজি। এগুলো এক ব্যক্তি সহজেই পানিতে নামাতে পারেন। জলযানগুলোর সর্বোচ্চ পরিসর ৩০ কিলোমিটার এবং একটানা আট ঘণ্টার বেশি সময় কাজ করার সক্ষমতা রয়েছে।
নেভিগেশনের জন্য এসব জলযানে ক্যামেরাভিত্তিক ভিজ্যুয়াল প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জলযানগুলো পানির নিচের পরিবেশ শনাক্ত করে নির্ধারিত পথ অনুসরণ করতে পারে। উল্লম্বভাবে ওঠানামা, স্থির অবস্থায় ঘুরে যাওয়া, পানিতে নির্দিষ্ট গভীরতা ধরে চলা, ভূখণ্ড অনুসরণ এবং নির্দিষ্ট স্থাপনা বা চিহ্ন শনাক্ত করার মতো কাজও করতে পারে। পানির স্রোত বা সামান্য ধাক্কায় পথচ্যুত হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিস্থিতি বুঝে সংশোধন করার ব্যবস্থাও রয়েছে।
গবেষকদের মতে, এই প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ ব্যবহারিক ক্ষেত্রও বিস্তৃত। সমুদ্রের তলদেশ জরিপ, পানির নিচের পরিবেশ পর্যবেক্ষণ এবং তেল-গ্যাসের পাইপলাইন পরিদর্শনের মতো কাজে এ ধরনের স্বয়ংক্রিয় জলযান ব্যবহার করা যেতে পারে। নর্থওয়েস্টার্ন পলিটেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি দীর্ঘদিন ধরে পানির নিচের সেন্সিং, অ্যাকোস্টিক কমিউনিকেশন ও ভিজ্যুয়াল পারসেপশন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে।
amardesh24.com









