নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে এক গোল উৎসব করেছে ইংল্যান্ড। ব্রাজিল ফিফা র‌্যাংকিংয়ে ছয় নম্বরে, ভারতের র‌্যাংকিং,। ঢাকা বিমান বন্দরে এক যাত্রীর কাছ থেকে সাড়ে ৪ কেজি সোনা উদ্ধার। চার বছর বয়সী এক শিশুকে বাথরুমে নিয়ে অচেতন করার চেষ্টা। মদের বারের ওজনে সালমান মুক্তাদিররে কথা টোন ভাল ছিল। মাদক ও কিশোর গ্যাংবিরোধী বিশেষ অভিযান চালিয়ে ৩ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার। পরিবহন তল্লাশির সময় ট্রাকচাপায় এসআরবি সদস্য নিহত। তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদনে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ২৩ বছর কেটে গেলেও বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি থিনার কন্টেইনার। লিওনেল মেসি শেষবারের মতো আর্জেন্টিনার জার্সি পরবেন।

দীর্ঘ ২৩ বছর কেটে গেলেও বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি থিনার কন্টেইনার।

কাজী জাহাঙ্গীর: চট্টগ্রাম।

চট্টগ্রাম কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, ৯টি কনটেইনারে মোট ১৫০ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টন রাসায়নিক রয়েছে। এর মধ্যে ২৫ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন সালফিউরিক অ্যাসিড, ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিড, ৯২ দশমিক ৫৪ মেট্রিক টন মিথানল এবং ৩২ দশমিক ৩০ মেট্রিক টন থিনার রয়েছে।

কাস্টমসের তথ্য অনুযায়ী, এসব রাসায়নিকের মধ্যে সবচেয়ে পুরোনো চালানটি আসে ২০০৩ সালে। দুটি কনটেইনারে থাকা থিনারের একটি তখনই চট্টগ্রাম বন্দরে আসে। এরপর দীর্ঘ ২৩ বছর কেটে গেলেও সেটি বন্দর থেকে খালাস করা হয়নি। অন্য থিনারের কনটেইনারটি আসে ২০১৬ সালে।

এ ছাড়া প্রায় ৫০০ কেজি নাইট্রিক অ্যাসিডের কনটেইনারটি আসে ২০১৪ সালে। ২৫ দশমিক ৫৫ টন সালফিউরিক অ্যাসিডের কনটেইনার আসে ২০১৬ সালে। আর পাঁচটি কনটেইনারে থাকা ৯২ দশমিক ৫৪ টন মিথানল আমদানি করা হয় ২০১৯ ও ২০২৩ সালে।

দীর্ঘদিন ধরে এসব রাসায়নিক বন্দরে পড়ে থাকার পেছনে খালাস না হওয়া, প্রশাসনিক ও আইনি জটিলতাসহ বিভিন্ন কারণ ছিল বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ায় এগুলো নিলামে বিক্রির সুযোগও ছিল না। ফলে বিপজ্জনক পণ্যবোঝাই কনটেইনারগুলো বছরের পর বছর বন্দরের জায়গা দখল করে ছিল।

রূপগঞ্জে হবে ধ্বংস

চট্টগ্রাম বন্দরে এসব রাসায়নিক ধ্বংসের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা না থাকায় সেগুলো নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ উপজেলার মুড়াপাড়ায় ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেডের কারখানায় নেওয়া হচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির মাধ্যমে পরিবেশসম্মত ও নিয়মতান্ত্রিক পদ্ধতিতে রাসায়নিকগুলো ধ্বংস করা হবে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের সহকারী কমিশনার মো. রাসেল আহমেদ জানান, বন্দরের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা কনটেইনারের জট কমানোর লক্ষ্যেই এসব রাসায়নিক ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়া শেষ করতে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

শনিবার দুপুরে চট্টগ্রাম বন্দরের ৮ নম্বর ‘বি’ ইয়ার্ড থেকে রাসায়নিকবাহী বিশেষ কনভয় নারায়ণগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেয়। বিপজ্জনক রাসায়নিক পরিবহনের কারণে পুরো বহরের সঙ্গে পুলিশ প্রহরার ব্যবস্থা করা হয়।

১২ সংস্থার সমন্বয়ে কার্যক্রম

বাংলাদেশ জাতীয় কর্তৃপক্ষ, রাসায়নিক অস্ত্র কনভেনশনের (বিএনএসিডব্লিউসি) সুপারিশ এবং চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের ধ্বংস কমিটির উদ্যোগে রাসায়নিকগুলো সরিয়ে নেওয়ার কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এ কাজে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর), বিস্ফোরক অধিদপ্তর, পরিবেশ অধিদপ্তর ও আনসার ব্যাটালিয়নসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সংস্থাগুলো যুক্ত রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠান পরিবহন, নিরাপত্তা ও কারিগরি সহায়তা দিচ্ছে।

ওয়াটা কেমিক্যালস লিমিটেড রাসায়নিক ধ্বংসের দায়িত্ব নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি এ কাজের জন্য কোনো অর্থ নেবে না বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

বন্দরের নিরাপত্তা ও কনটেইনার জট কমানোর উদ্যোগ

কাস্টমস কর্মকর্তারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে বন্দরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক রাসায়নিক একদিকে বন্দরের জায়গা দখল করে রাখে, অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করে। বিশেষ করে দীর্ঘ সময় কনটেইনারে থাকার কারণে এসব রাসায়নিকের অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে তা আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

এ কারণে মেয়াদোত্তীর্ণ ও ব্যবহার অনুপযোগী রাসায়নিক শনাক্ত করে পর্যায়ক্রমে ধ্বংসের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। প্রথম ধাপে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ৯টি কনটেইনার সরিয়ে নেওয়া হলো।

দীর্ঘ ২৩ বছর বন্দরে পড়ে থাকা একটি থিনারের কনটেইনার সরানোর মধ্য দিয়ে পুরোনো বিপজ্জনক পণ্য ব্যবস্থাপনায় একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেওয়া হলো। সংশ্লিষ্টদের আশা, এ ধরনের উদ্যোগ বন্দরের নিরাপত্তা বাড়ানোর পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে পড়ে থাকা বিপজ্জনক পণ্যের জট কমাতে সহায়তা করবে।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন