আন্তজার্তিক ডেস্ক:
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫
১৯৪৫ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যুক্তরাষ্ট্রের এক বোমায় নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছিল জাপানের পুরো হিরোশিমা শহর। এবার সেই বোমার চেয়ে ২৪ গুণ শক্তিশালী বোমা বানানোর তোড়জোড় শুরু করেছে মার্কিন সরকার। নির্ধারিত সময়ের সাত মাস আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্র এই বোমা বানানোর কার্যক্রম শুরু করে দিয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। প্রতিরক্ষা দপ্তরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এটি তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। কারণ, সাম্প্রতিক সময়ে উত্থাপিত বিভিন্ন নিরাপত্তা হুমকি মোকাবেলা এবং দেশটির পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশেষ করে বি৬১-১৩ ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো হচ্ছে। নতুন পরিকল্পনার এই অস্ত্র দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহৃত বোমাগুলোর সক্ষমতাকে ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপটি রাশিয়া ও চীনসহ অন্যান্য দেশগুলোর সঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক উত্তেজনা এবং শীতল যুদ্ধের (কোল্ড ওয়ার) মতো পরিস্থিতির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া হচ্ছে।
স্যান্ডিয়া ন্যাশনাল ল্যাবরেটরিজ ইউএস এয়ার ফোর্স এবং অন্যান্য সংস্থা উৎপাদন সময় ২৫ শতাংশেরও বেশি কমাতে সহযোগিতা করছে। এতে করে প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের চেয়ে সাত মাস এগিয়ে এসেছে।
বিএ৬১-১৩ কী,
ফেডারেশন অফ আমেরিকান সায়েন্টিস্টস অনুযায়ী, বিএ৬১-১৩ একটি গ্র্যাভিটি পারমাণবিক বোমা। এর বিস্ফোরক শক্তি বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত, যার ক্ষমতা ৩৬০ কিলোটন। বোমাটির বিস্ফোরক শক্তি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে হিরোশিমায় ফেলানো বোমার চেয়ে ২৪ গুণ শক্তিশালী হবে।
এছাড়া, বিশ্বের অন্যান্য শক্তিধর দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা বজায় রাখতে রাশিয়ার আরএস-২৮ সারমাট এবং চীনের ডিএফ-৪১ এর মতো ক্ষেপণাস্ত্রগুলোর মত ধ্বংসাত্মক বোমার থেকে দ্বিগুণ শক্তিশালী হবে বি৬১-১৩।বোমাটি ক্ষেপণাস্ত্রের বদলে বিমান দ্বারা বহনযোগ্য হবে। প্রথমত, বি২ স্টিলথ বোমার, পরে বি-২১ রেইডার থেকে ফেলা হবে। ধারণা করা হচ্ছে, ২০৩০ সালের মধ্যে বোমাটি বাজারে আসবে।









