নোটিশ: বকেয়া পরিশোধ না হওয়ায় সাইটটি শীঘ্রই সাসপেন্ড হয়ে যাবে, অনুগ্রহ পূর্বক যোগাযোগ করুন। ধন্যবাদ।

সর্বশেষ
জনপ্রিয়তার মূল কারিগর ছিলেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া। লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পা রাখার সুযোগ মেলে না। রাজনীতি শিখতে মেঘনার বাসায় আসতেন: পাটোয়ারী। প্রযুক্তিনির্ভর ‘অটো ফাইন সিস্টেম’ চালু করতে যাচ্ছে হাইওয়ে পুলিশ। এবার কন্যাসন্তানের মা হলেন টালিউড অভিনেত্রী পূজা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযানে ৫৫৯ জনকে আটক। ইরানের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতি। মরহুমা বেগম খালেদা জিয়ার ৮২তম জন্মবার্ষিকী আজ। ৩২ নম্বরে ১৫ আগস্টে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে আটক এক যুবককে কারাগারে প্রেরণ। বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরাম জাতীয় স্থায়ী কমিটিতে নতুন করে ৪ নেতাকে অন্তর্ভুক্ত।

লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পা রাখার সুযোগ মেলে না।

লাল বলের ক্রিকেটে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের পা রাখার সুযোগ মেলে নাবললেই চলে। ২৩ বছরের এক দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে যখন বাংলাদেশ দল ডারউইনের মারারা স্টেডিয়ামে সাদা পোশাকে নামল, তখন তাদের কাঁধে ছিল সাম্প্রতিক নানা ব্যর্থতার ভারী বোঝা।

গত মাসেই হারারেতে জিম্বাবুয়ে-পরীক্ষায় বড় ধরনের ধাক্কা খাওয়া, কিংবা ডারউইনে আসার পর স্থানীয় ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়া একাদশের বিপক্ষে গা-গরমের ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরে যাওয়া সব মিলিয়ে ডারউইন টেস্টের আগে বাংলাদেশ দলকে নিয়ে বাজি ধরার মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া দায় ছিল। কিন্তু সব আশঙ্কা ও ক্রিকেটীয় পরিসংখ্যানকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মারারা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ যা করে দেখাচ্ছে, তা এককথায় অবিশ্বাস্য।

খেলার তৃতীয় দিনশেষে ম্যাচের যে সমীকরণ দাঁড়িয়েছে, তাতে বাংলাদেশ এক অনন্য ও সুবিধাজনক অবস্থানে। কিন্তু এই ম্যাচের তাৎপর্য কেবল স্কোরবোর্ডের জয় কিংবা পরাজয়ের পরিসংখ্যানে সীমাবদ্ধ নেই। দীর্ঘ সময় ধরে ক্রিকেটের পরাশক্তি হিসেবে রাজত্ব করা অস্ট্রেলিয়ার মাঠে বাংলাদেশকে এভাবে চোখ রাঙাতে দেখাটাই এক বিশাল প্রাপ্তি। ক্রিকেটের প্রকৃত ও রোমাঞ্চকর সৌন্দর্যের এক সেরা বিজ্ঞাপন।

তৃতীয় দিনে চালকের আসনে থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ শিবিরের মধ্যে কোনো ধরনের আত্মতুষ্টির ছায়া দেখা যায়নি। দিনশেষে ম্যাচটির উজ্জ্বল নায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ যখন সংবাদ সম্মেলনে এলেন, তখনো তাঁর কণ্ঠে ছিল চরম পেশাদারিত্ব ও বিনয়। দল সুবিধাজনক অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও মিরাজ আগাম জয়ের কোনো হুংকার দেননি। প্রতিপক্ষ যেখানে বিশ্বের সেরা ক্রিকেট শক্তি অস্ট্রেলিয়া, সেখানে অতি-আত্মবিশ্বাসের কোনো সুযোগ যে নেই, সেটি মিরাজের পরিপক্ব বক্তব্যে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

স্বাগতিকদের সেরা পেসার জস হ্যাজলউড যেভাবে নিখুঁত লাইন-লেংথ বজায় রেখে বাংলাদেশকে চেপে ধরার চেষ্টা করেছেন এবং বল হাতে ছয়টি উইকেট শিকার করেছেন, মিরাজের মুখেও ঠিক একই রকম আত্মসংযমী সুর শোনা গেছে। কোনো বড় কথা না বলে তিনি দলের সম্মিলিত প্রচেষ্টাকে সামনে এনেছেন।

পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন ম্যাচের এমন অবস্থায় তারা হঠাৎ করে জয়ের কোনো রূপরেখা বা বড় কোনো লক্ষ্যের কথা ভাবছেন না। বরং তাদের পুরো মনোযোগ ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র পদক্ষেপে এগোনোর দিকে। মারারা স্টেডিয়ামের উইকেটে বোলারদের জন্য বাড়তি সুবিধা যেমন রয়েছে, তেমনি ব্যাটিং করাটাও পুরোপুরি অসম্ভব নয়। ফলে প্রতিপক্ষ ব্যাটারদের প্রতিটি উইকেট তুলে নিতে যে ঘাম ঝরাতে হবে, তা বাংলাদেশ বেশ ভালো করেই অনুধাবন করতে পারছে।

অস্ট্রেলিয়ার ক্রীড়াসংস্কৃতির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো খেলার প্রতি তাদের গভীর শ্রদ্ধা। দল জেতা বা হারা গুরুত্বপূর্ণ হলেও, তারা সবসময় ভালো ও লড়াকু ক্রিকেটকে সম্মান জানাতে জানে। দীর্ঘ বাইশ বছর পর ডারউইনে কোনো আন্তর্জাতিক টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে, আর সেই উপলক্ষটিকে স্মরণীয় করে তুলেছেন সফরকারী বাংলাদেশি ক্রিকেটাররা।

amardesh24.com

 

আরও পড়ুন