দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে কাল শনিবার অবসর ও কল্যাণের টাকা পেতে যাচ্ছে অবসরপ্রাপ্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীরা। তাদের বকেয়া পরিশোধে এককালীন ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে দেশের ৬৪ জেলায় একযোগে এই অর্থ সংশ্লিষ্ট শিক্ষক-কর্মচারীদের ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হবে। রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ চার বছর ধরে জমে থাকা শিক্ষকদের বকেয়া পরিশোধে সরকার বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা সরাসরি শিক্ষক-কর্মচারীদের নিজস্ব ব্যাংক হিসাবে পাঠানো হচ্ছে।
তিনি জানান, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ শতাংশ এমপিওভুক্ত বেসরকারি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা কর্মজীবনের শেষ পর্যায়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে অবসর ও কল্যাণ সুবিধার অর্থ না পেয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে ছিলেন।
দুর্নীতি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, দীর্ঘদিনের দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে শিক্ষাব্যবস্থায় যে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, তা একদিনে দূর করা সম্ভব নয়। একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কঠিন সিদ্ধান্ত এবং কার্যকর নীতি গ্রহণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, শিক্ষাখাতে দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।
২০২২ সালের পর অবসরে যাওয়া শিক্ষকরা এবার অর্থ পাবেন
শিক্ষামন্ত্রী জানান, ২০২২ সালের পর অবসরে যাওয়া বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-কর্মচারী এতদিন তাদের প্রাপ্য অর্থ থেকে বঞ্চিত ছিলেন। এতে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি শিক্ষক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছিল।
এবার প্রথম পর্যায়ে অবসর সুবিধা বোর্ডের ৭০ হাজার ১১৯ জন শিক্ষক-কর্মচারী সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত পাবেন। পাশাপাশি কল্যাণ ট্রাস্টের ৫৩ হাজার ২০১টি আবেদনের বিপরীতে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা দেওয়া হবে।
মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ
সরকারের বরাদ্দ করা ২ হাজার ৩৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকার মধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডের জন্য ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা রাখা হয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এবার কোনো মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালের মাধ্যমে অর্থ দেওয়া হবে না। ম্যানুয়াল ফাইল আটকে রাখার পুরোনো ব্যবস্থাও বাদ দেওয়া হয়েছে। জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাইয়ের পর সরাসরি ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠানো হবে।
দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ব্যবস্থা গড়ার পরিকল্পনা
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা যাতে ভবিষ্যতে দ্রুত তাদের পাওনা বুঝে পান, সে জন্য আগামী বাজেটগুলোতে ধারাবাহিকভাবে অর্থ বরাদ্দের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান শিক্ষামন্ত্রী।
তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদে সরকারি ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ বাড়িয়ে অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টকে স্বাবলম্বী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্য হলো, একজন শিক্ষক অবসরে যাওয়ার ৩ থেকে ৬ মাসের মধ্যে যেন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তার প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যান।
ইতোমধ্যে অবসর সুবিধা বোর্ডকে ৩ হাজার ৮০০ কোটি টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টকে ৪০০ কোটি টাকার বন্ড দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।শিক্ষামন্ত্রী বলেন, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের আর্থিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা, জবাবদিহিতা ও আধুনিকতা ফিরিয়ে আনাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
amardesh24.com









